খেলাধুলা

10 বছরে বদলালো না ইতিহাস! ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পরাজিত ইংল্যান্ড, বিশ্বজয়ের স্বপ্ন তবে কি অধরা ইংল্যান্ডের? 

বুধবার ওয়াংখেড়েতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর কাছে পরাজিত হতে হল ইংল্যান্ডকে। তবে এই ছবি আরো একবার দেখা গিয়েছিল ১০ বছর আগে। ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে নেমেছিল দুই দল। সেই সময়ও দেখা গিয়েছিল ইংল্যান্ডকে পরাজিত হতে হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে। দশ বছর আগের সময়টা যদি ফিরে দেখা যায়, তাহলে মনে পড়ে যায় শেষ ওভারের খেলা যখন চলছিল চারটে ছক্কা মেরে ইংল্যান্ডের বিশ্বজয় হওয়ার স্বপ্নকে ধুলিস্যাৎ করে বিশ্বজয়ের ট্রফি জিতে নিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দশ বছর আগে ভারতের ভূমিতে সেই পরাজয়ের যন্ত্রণা বদলা নেওয়ার জন্যই আবার কামব্যাক ইংল্যান্ড ভারতের মাটিতে। তবে এইবারও স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। দশ বছরের জমে থাকা যন্ত্রণার বদলা নেওয়ার মোক্ষম সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ইংল্যান্ডকে আত্মসমর্পণ করতে হলো ক্যারিবিয়ারদের কাছে। 

বুধবার দিন টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নেন ইংরেজ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। যদিও প্রথমদিকে ভালোই খেলছিল এই দল। মাত্র ৮ আর বলের মধ্যে দুই উইকেট হারিয়ে দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এই অবস্থায় বেশ কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই খেলাটা ঘুরে যায়। হয়তো সেদিন ভাগ্য সদয় ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজদের পক্ষেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড় সিমরান হেটমায়ার এবং রস্টন চেজের ব্যাটিং ওয়েস্ট ইন্ডিজদের ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলেন শেরফান রাদারফোর্ড এবং জেসন হোল্ডার। এই দুই খেলোয়াড়ের ব্যাটের দাদাগিরি একদম ইংল্যান্ডকে পরাস্ত করার জন্য রেডি ছিল বলা যায়। রাদারফোর্ড ৪২ বলে ৭৬ রান এবং জেসন হোল্ডার ১৭ বলে ৩৩ রান করে দুর্দান্ত ইনিংস গড়ে তোলেন। সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মোট রান সংগ্রহ করে 196। যদিও প্রথমদিকে ব্রিটিশ বাহিনী দল খুব ভালোভাবে খেলা শুরু করেছিল। প্রথমদিকে ১৪ বলে ৩০ রান করে ফিল সল্ট ভালোই খেলা শুরু করেছিল তবে শেষের দিকে অনেকটা পিছিয়ে যায় তারা। ব্রিটিশ বাহিনী দলের জস বাটলার, টম ব্যান্টন, উইল জ্যাকস থেকে শুরু করে অধিনায়ক ব্রুক কেউই তেমন একটা ভালো রানের সংগ্রহ করতে পারেনি। বলা যায় ফিল্ডিং বা ব্যাটিং দুটো দিকেই ইংল্যান্ড প্রথম দিক থেকেই কিছুটা ছন্দপতনের দিকেই ছিল। নেপালের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড যখন নেমেছিল তখন ইংল্যান্ডের মধ্যে যেরকম একটা জোশ ব্যাপার ছিল সেটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে খেলার সময় দেখতে পাওয়া যায়নি।  

হয়তো নেপালের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের জয় কিছুটা বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল, হয়তো তার জন্যই কিছুটা নিজেদেরকে হালকাভাবে নিয়ে নিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে ইংল্যান্ডের সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে যাওয়ার জন্য এখন কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে তার কারণ পয়েন্ট টেবিলে এখন তারা রয়েছে তৃতীয় স্থানে। নেপালের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের জয় হলেও এখনো স্কটল্যান্ড ও ইতালির বিরুদ্ধে লড়াই রয়েছে বাকি। আগামী দুটো ম্যাচের মধ্যে একটাতেও যদি ইংল্যান্ড হেরে যায় তাহলে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে ইংল্যান্ডের। তাই এখন ইংল্যান্ডের সামনে বড় লড়াই অপেক্ষা করছে। অন্যদিকে কিছুটা রিলাক্স রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কারণ পরপর দুইটি ম্যাচ জিতে আপাতত নিশ্চিন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ১০ বছর আগে ভারতের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ইংল্যান্ডের পরাজয়, দশ বছরের পরের আবার ভারতের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ইংল্যান্ডের পরাজয় অনেকটাই মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে ইংল্যান্ডকে। তবে এখন মানসিক ভেঙে পড়া নিয়ে থেমে থাকলে হবে না, সামনে পরপর দুটো ম্যাচ অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ডকে প্রমাণ করার জন্য। আপাতত সেই ম্যাচ দুটোর দিকে তাকিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা।

আরোও পড়ুন : ডিসেম্বরের শেষে টাটা মোটরস প্যাসেঞ্জার ভেহিক্যালসের লোকসান ও রাজস্ব আপডেট জেনে নিন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button